করোনাকাল
বিচ্ছিন্ন অনুভব
মাহফুজা হিলালী

প্রবন্ধ
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
শামসুজ্জামান খান

গল্প
ডায়মন্ড লেডি ও পাথর মানব
হামিদ কায়সার

গদ্য
নিদ্রা হরণ করেছিল যে বই
মিনার মনসুর

নিবন্ধ
পঞ্চকবির আসর
সায়কা শর্মিন

বিশ্বসাহিত্য
আইজাক আসিমভের সায়েন্স ফিকশন
অনুবাদ: সোহরাব সুমন

বিশেষ রচনা
প্রথম মহাকাব্যনায়ক গিলগামেশ
কামাল রাহমান

শ্রদ্ধাঞ্জলি
মুজিব জন্মশতবর্ষ
মারুফ রায়হান
 
সাক্ষাৎকার
কথাশিল্পী শওকত আলী

জীবনকথা
রাকীব হাসান

ভ্রমণ
ইম্ফলের দিনরাত্রি
হামিদ কায়সার

ইশতিয়াক আলম
শার্লক হোমস মিউজিয়াম

নিউইর্কের দিনলিপি
আহমাদ মাযহার

শিল্পকলা
রঙের সংগীত, মোমোর মাতিস
ইফতেখারুল ইসলাম

বইমেলার কড়চা
কামরুল হাসান

নাজিম হিকমাতের কবিতা
ভাবানুবাদ: খন্দকার ওমর আনোয়ার

উপন্যাস
আলথুসার
মাসরুর আরেফিন

এবং
কবিতা: করেনাদিনের চরণ

১৪ বর্ষ সংখ্যা ০৯
এপ্রিল ২০২২

লেখক-সংবাদ :





পাহাড়ে অনাহারী
দীপনা চাকমা দীপু
করোনা ভাইরাসের কোন মন নেই। তাই দয়া মায়াও নেই। এই করোনা ভাইরাস এসে আমাদের অনেক কিছু শিক্ষা দিচ্ছে এবং দিয়ে যাবে। কিসের জাত? কিসের ধর্ম? কিসের শ্রেণি? মূল সত্য হচ্ছে আমরা মানুষ।
করোনা ভাইরাসের এই রাজত্বে বিশ্ব অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। পুঁজিবাদের ভিত্তি নড়বড় হয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্ব মোড়লের জায়গাটা আমেরিকার দখলে থাকবে নাকি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র চীনের হাতে চলে যাবে সেটা নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছে। সেই সাথে আশংকা করা হচ্ছে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। বাংলাদেশের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশ হুমকিতে রয়েছে।
তিন পার্বত্যজেলার আদিবাসীরা এই করোনাকালে খাদ্য সংকটে রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ে বসবাস করা কয়েক হাজার আদিবাসী পরিবার, যারা নিজেদের উৎপাদিত জুমের ফসল, বাঁশ কাঠ এবং মৌসুমি কোন বনজ সম্পদ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। বর্তমানে বাজার ঘাট, দোকানপাট ও যানবাহন বন্ধ হওয়াতে তাঁদের উপার্জন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। দিন আনে দিনে খায় এই আদিবাসী পরিবারগুলোতে খাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দুর্গম হওয়াতে মিলছে না কোন ত্রাণ। বুনো আলু, বুনো লতাপাতা খেয়ে এখন তারা দিনাতিপাত করছে।
কয়েকদিন আগ পর্যন্ত দূর্গম ঐসব অঞ্চলে হাম রোগে এক পাড়া থেকে আরেক পাড়ার লোকজন (বিশেষ করে শিশুরা) আক্রান্ত হয়ে একের পর এক মারা যাচ্ছিল। অতিরিক্ত দূর্গম এবং স্থানীয়দের অজ্ঞতার কারণে সেখানে টিকাদান কর্মসূচী শূন্য অবস্থানে থাকায় এই দূরবস্থা। পরবর্তীকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নিউজ চ্যানেলগুলোতে এ খবর প্রচারিত হলে স্বাস্থ্যবিভাগসহ এবং সেনাবাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় রোগের প্রাদূর্ভাব কমে এসেছে। খাদ্য সংকটে থাকা দূর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে সরকার বা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দ্রুত ত্রাণ না পাঠালে অনাহারে মানুষ মারাও যেতে পারে।
প্রতিবছর এপ্রিল মাস এলে  পাহাড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। বাংলা বছরের শেষ তিনদিন ফুল বিঝু, মূল বিঝু এবং নতুন বছর (চাকমা কথায় গোজ্যে পোজ্যে দিন) ঘিরে পাহাড়ে সকল আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাজ সাজ রব পড়ে। এক মাসেরও আগে থেকে চলে বৈসাবি উদযাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ। (চাকমাদের বিঝু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরাদের বৈসুক এই তিন শব্দ থেকে প্রথম অক্ষর নিয়ে (বৈসাবি) শব্দ গঠিত। যদিও বর্তমান প্রজন্ম বৈসাবি শব্দটিকে মানতে নারাজ। তারা মনে করে প্রশাসন জোর করে এই শব্দটি চাপিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সবাই নিজ নিজ ভাষায় বলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে। তাই বৈসাবি শব্দটি লিখিত একটি অফিসিয়াল শব্দ মাত্র। যা কোন সম্প্রদায় মৌখিকভাবে ব্যবহার করে না।)
পাহাড়ে সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব বিঝুকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় আয়োজন করা হতো ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধূলা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ফুল বিঝুর দিনে (মেয়েরা স্বজাতীয় পোশাক পিনোন হাদি এবং ছেলেরা ধুতি পড়ে) নদীতে ফুল দিয়ে/ ভাসিয়ে, বাতি জ্বালিয়ে মঙ্গল কামনা করা হতো  আর মূল বিঝুতে হরেকরকম ঐতিহ্যবাহী খাবার দাবারের আয়োজন করা হতো। নতুন বছরকে বরণ করা হতো ধর্মীয় উপাসনালয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। আর মারমা ও রাখাইন সম্প্রদায় বৈসাবিতে পানিখেলার আয়োজন করে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতো। দেশি বিদেশি পর্যটকেরা ভীড় জমাতেন এই খেলা দেখার জন্য।
দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পাহাড়ের এই খুশির উৎসব পালন বাতিল করতে হচ্ছে।  যদিও পারিবারিকভাবে সবাই কমবেশি বৈসাবির রীতিনীতি পালন করবে, কিছু খাবার দাবারের আয়োজন করেছে। কিন্তু কোন সামাজিকতা নয়। করোনার কারণে পাহাড় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পাহাড়ে এখনো করোনা রোগীর সন্ধান মেলেনি। করোনা যদি পাহাড়ে আঘাত হানে তাহলে বিনা চিকিৎসায় মানুষ মারা যাবে। কারণ, পাহাড়ে স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত নাজুক। উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ পাহাড়ে নেই। তাই আগেই সতর্ক হওয়া দরকার।